জারার স্মৃতি বুকে নিয়ে মানবসেবার মাধ্যমে বেঁচে থাকার প্রত্যয় পিতা|
গাজীপুর জেলা নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সন্তান হারানোর বেদনা যে কতটা গভীর ও অসহনীয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আদরের সন্তান জারাকে হারিয়ে সেই গভীর শোকের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তার বাবা মোশতাক আহমেদ রুহী। মেয়ের স্মৃতি, ভালোবাসা ও মানবিক গুণাবলি বুকে ধারণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াকেই তিনি জীবনের নীরব শক্তি ও প্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
জারাকে হারানোর পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মোশতাক আহমেদ রুহী বলেন, প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি নীরবতায় ও প্রতিটি নিঃশ্বাসে তিনি মেয়ের শূন্যতা অনুভব করেন। প্রিয় সন্তানের স্মৃতি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়, আবার সেই স্মৃতিই তাকে মানুষের জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
তিনি বলেন, সন্তান হারানোর শোক হয়তো কখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবে সেই শোককে ভালোবাসা ও মানবকল্যাণের শক্তিতে রূপ দেওয়া সম্ভব। কোনো অসহায় মানুষ সহযোগিতা পেলে, কোনো রোগী চিকিৎসার সুযোগ পেলে কিংবা কোনো বিপদগ্রস্ত পরিবার আশার আলো খুঁজে পেলে মনে হয়—জারার ভালোবাসা যেন মানুষের মাঝে বেঁচে আছে।
মোশতাক আহমেদ রুহী আরও বলেন, প্রিয় সন্তানের স্মৃতিকে মানুষের কল্যাণে বাঁচিয়ে রাখাই সন্তানহারা মা-বাবার জন্য এক ধরনের সান্ত্বনা হতে পারে। জারার মানবিক গুণাবলি, মেধা ও স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে তিনি ভবিষ্যতে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে তিনি বলেন, কান্না কোনো দুর্বলতা নয়; এটি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। শোককে অস্বীকার না করে সেই শোকের মধ্য থেকেই মানবতা, ভালোবাসা ও কল্যাণের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে সকল সন্তানহারা মা-বাবার প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি প্রার্থনা করেন—আল্লাহ যেন তাদের ধৈর্য দান করেন এবং প্রয়াত সন্তানদের জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।
“জারা স্মৃতিতে নয়, মানুষের কল্যাণের মাঝে বেঁচে থাকুক”—এটাই এখন শোকাহত পিতার প্রত্যাশা।